Sunday, February 2, 2020

CRITIC : unlimited pretension

আমার লাস্ট লেখা সব ২০১৭ এর আগে। আমি যেখানে কাজ করি সেখানে ২০১৭-র জানুয়ারিতে একটা বড়ো টেকনিকাল আপগ্রেড ছিল, আর সেটা ফাটে। ঐ যে শুরু হল, সেই ধুঁয়োতে কাজ আর জীবন দুটোই ভালো মার খেল। এখন অবশ্য অনেকটাই হাগা পরিষ্কার করা গেছে, কিন্তু জানবেন নিজে না চাইলে কেউ বাঙ্গালিত্ব ভোলে না আর বাঙ্গালির অ্যাট লিস্ট তিনটে হাত। আমি, খুব প্রফেশনালদের মত, নিজে একটা লিস্ট-ও বানিয়েছিলাম আর কি কি নিয়ে কায়দা মারবো বলে, সেটা সেই লিস্টেই পড়ে আছে। কবি বলেছেন, যেকোনো জিনিস এ তার ক্রিয়েটরকে রিফ্লেক্ট করে ["অ্যাজ মাচ অটোবায়োগ্রাফিক্যাল অ্যাজ ইন আদার.."], সেই জন্যে একটু ইচ্ছা হল সেই অসমাপ্ত কাজের কথা বলার। জানুজ কামিনস্কি বলেছেন যে ওনাকে জানতে হলে ওনার কাজ দেখতে হবে। আবার উলটো যুক্তিরও অভাব নেই। বিভূতিভূষণ ব্যানার্জির মত নিসর্গ-প্রেমিক লেখক নাকি বৌকে পেটাতেন ধরে ধরে। অতএব, ডিপেন্ডস। আমার কাছে এর থেকে বেটার মেটেরিয়াল আর কিছু নেই বলে আপাতত স্টিকি থেকেই ব্লগ ভরাচ্ছি। আমি এখনও বুঝে উঠতে পারি নি কি নিয়ে/কেমন ভাবে নতুন মাল গুলো আপলোড করব

লিস্ট হেব্বি লম্বা। সেই সময়ে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার একটা ফ্যাশন ওঠে, সেই নিয়ে পয়েন্টারস অবধি রেডি ছিল। আরেকটা জিনিসের হিন্ট পুরোনো আর্টিকেলগুলোতে দিয়েছিলাম, সেটা হল অনুরাগ কাশ্যপ ও দিবাকর ব্যানার্জির পোদে লাগা, সেটাও মোটামুটি ভাবে তৈরি। আর কয়েকটা, যেগুলো ইন্সপায়ার্ড বাই তৎকালীন ফিল্ম এবং ফিল্মি ট্রেন্ড। যেমন লোগান থেকে 'genre mashup' আর টাইগার জিন্দা হ্যায় থেকে 'the dawn of big hits'। আমি তখন তিন-চার জনের কাছে কুয়েন্টিন দুপিয়ে [ট্যারান্টিনো নয়, আরেকজন] এর নাম শুনে খুব ভক্ত হয়ে গেছিলাম, সেটাও তো কিছু করা হয়নি। বাকি দুটো যেগুলো অলমোস্ট ফাইনাল ছিল তার একটা অনলাইন মুভি এক্সপ্ল্যানেশন বা ব্রেকডাউন নিয়ে, আর একটা খুব পার্সোনাল.. পূজোর নতুন বই কিছুতেই এখানে পাওয়া যায় না, আর বাইরের লোক পূজোর ছবি বলতে কিভাবে রিয়্যাক্ট করে, সেই সব মারানোর একটা আইডিয়া। তার পরে আর কয়েকটা জিনিস শুধু পয়েন্ট লিখে রেখেছিলাম, এই এতো বছর পরে বাকিটা ভুলে গেছি

আর এখন, এখন আমার প্ল্যান হল যতগুলো সম্ভব ব্যাকলগ ক্লিয়ার করা। তার আগে আছে বাছাই পর্ব। কি আগে নেব আর কোনটা কোনটা বাদ যাবে। যখন ভাবছি এগুলো, মোটামুটি সুরে যে কিছু টপিক অবসোলিট হয়ে গেছে আর কয়েকটা জিনিস নিয়ে অন্য লোকজন লিখে ফেলেছে, সেই গুলো বাদ দেওয়া যাক

তারও আবার কাউন্টার আছে। এই যে গত দশ বছর ধরে চেল্লাছি যে রেলিভ্যান্স বলে কিছু হয়না আর্টের ক্ষেত্রে, বা, ব্যাক্তিগত এফোর্টের থেকে আর ভাল কিছু হয়না, সেই থিওরি তো মাঠে মারা যাচ্ছে আমি যদি হ্যান্ডপিকিং করি। তাহলে, একটাই চিন্তা এখন, কি করব

এতক্ষন দেখে কি মনে হল?! খুব অ্যানালিটিক। তবে এই ফার্স্ট দুটো ফিচার লিখে কিন্তু আমার মনে হছে যে আমি, মুভির থেকে, নিজেকে নিয়ে অনেক বেশি লিখছি এবার। যখন এই সেকেন্ড কলামটা লিখছি, ভাবছি যে সবগুলো পেন্ডিং ব্লগই লিখব, আর হয় গেলে, এটা থেকে হাইপারলিংকড করে দেব। খুব অ্যাম্বিশাস। দেখি কদ্দুর যায়। আর এই ছোটো ছোটো বাক্য দেখে মনে হচ্ছে যে রোরশাকের ডায়েরির প্রভাব তাও কম না। হ্যাঁ, এটা একটা আপডেট বটে। আমি, প্রায় ১৩-১৪ বছর পরে, একটা ইংরেজি বই কিনলুম। ফ্লুকে তো বটেই। লাস্ট কিনেছিলাম স্কুলে থাকতে, কাকে যেন একটা ইমপ্রেস করার জন্যে। অবশ্য এই বইটাও কেনা হয়েছে মোটামুটি ঐ রকম একটা প্রিটেনশন মারাতে। তবু ভাল, কিছু তো দেখা গেল। প্রসঙ্গত বলে রাখি, জ্যাক স্নাইডার কিন্তু হেব্বি প্লেন একটা অ্যাডাপটেশন করেছিলেন [আমরা শুধু সন্দীপ রায়কেই দোষ দিই ক্যানো]. এই দুটো ভিডিও দেখলে মোটামুটি একটা আইডিয়া পাওয়া যাবে




COMEBACK : self fear and self loathing

নতুন বছর। মাঝে আড়াই বছরের গ্যাপ ছিল, আর বাড়িও আড়াই বছর যেতে পারি নি। ল্যাদ ছাড়া আর কোনো কারণই নেই। আর মনে হয় একটু বেশি ইন্ডিকা টানা হয়ে যাচ্ছিল। এই আড়াই বছরে কি পরিবর্তন হয়েছে?! না, কিছু না। আমি বিয়ে করি নিই, সুইচ-ও না। আর বাইরে?! ও বাবা, প্রথম দর্শনে অবশ্য ভয়ানক একটা ভাইব পাওয়া যাবে। রাজ্যে, দেশে, বিশ্বে। সৌম্যদার কথা খুব মনে পড়ে। আমি মাল খাওয়ার সময়ে একটু রাজনীতি নিয়ে অ্যামেচারিশ ভাট বকতে ভালবাসতাম। কিন্তু যখনই মমতা ব্যানার্জির কথা উঠতো, সৌম্যদা একটা ব্যাজার মুখ করে বলত ঐ লোকটার নাম না নিতে, তাতে নাকি ওনার নেশা চটকে যাবে। ভাবতুম আদিখ্যেতা। এখন আমার পুরো সিস্টেমের উপর ঐ ফিলিংটা হচ্ছে। কারণ অনেক থাকতে পারে। চাকরিতে প্রসন্নতা নেই। এই বয়সেও বিয়ে হচ্ছে না। ভাল জিনিস মর্যাদা পাচ্ছে না দেখতে পাওয়া। খারাপ লোক বলে যাদের ভাবতুম তাদের পর পর সাকসেস। আর সিপিএম এর কোমর ভাঙ্গার খবর তো আছেই। ভাবুন একবার, লাস্ট ইলেক্শনে যে কটা সিট পেয়েছে, সেটা কোথা থেকে, পঃবঃ না, ত্রিপুরা না, কেরল না, তামিলনাডু। নবারুণ ভট্টাচার্য ঐ কিউএর ডকুমেন্টারীতে বলেছেন, নাইন্টিজে সোভিয়েত ইউনিয়ন কোলাপ্স হওয়ার পরে উনি নাকি ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন, আর আমি এইটুকু প্রিটেন্ড করতে পারব না?!

কিন্তু উলটোটাও ভেবে দেখুন। বাবা এবং পিতৃস্থানীয় সবাইকে আমার ছোটবেলায় খুব রেন্ডিরোনা করতে দেখেছি এই বলে যে সিপিএম আর কংগ্রেস মিলে আমাদের সর্বনাশ করে দিল আর জীবনমুখী গান স্বর্ণযুগের কাছে কিছুই না। আমি কলেজে থাকাকালীন নিজে খুব সচেতন হয়েছিলাম যে আর যাই হোক ভাই, এই কাঁদুনি কোনো দিন গাইব না। কিন্তু ঘুরে ফিরে ঐ হল। আমি নতুন অ্যাক্ট্রেসদের নাম জানি না, ধোনির পরের জেনারেশন সম্পর্কে কোনো আগ্রহই নেই যেনো। আরেকটা বিশাল অব্জারভেশন, একের পর এক লোক মরে যাচ্ছে। মানে, যাদের আমি নাম জানি। সব ফিল্ডেই। আমাদের প্রজন্মের [একেকটা প্রজন্মের যে আলাদা আলাদা নাম আছে, সেটাও এই লাস্ট আড়াই বছরে জানা] যে কেউ এটা পরখ করে দেখতে পারেন। দেখা যাবে যে প্রত্যেক মাসে এক বা একাধিক ফেমাস লোক টপাটপ গত হচ্ছেন। এমনকি চেনা পরিচিত বৃত্তের মধ্যেও। এটাকে যতটা জেনেরিক নস্টালজিয়া বলে গ্লোরিফাই করা হয়, আমার মনে হয় তা না। আসলে আমাদের সবার সমকালীন কিছু হিরো থাকে। এবং তাদের আমরা এতোটাই ভালবেসে ফেলি যে ফ্যানবয় থেকে ফ্যানাটিক হতে বেশি টাইম লাগে না। তারপর আর কাউকে পছন্দই হয় না। এক হিসেবে দেখলে, এটাকেই হয়ত নস্টালজিয়া বলে। তারকোভস্কি বেঁচে থাকলে এর উপর একটা সিকুয়েল বানাতে পারতেন

তো মানেটা কি হল, এই যে এতো আলোচনা ও চোদন, তার কোনো তাৎপর্য থাকবে না?! প্রথম কথা হল, ২০২০এ এসে আর তাৎপর্য নিয়ে এতটা মাথা না ঘামালেও চলবে। জীবনে প্রচুর জিনিস আছে, যার কোনো এফেক্টিভনেস নেই। যুদ্ধ, সিগারেট ইত্যাদি। যদি অ্যাবসলিউট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়। আবার কেউ বলতে পারেন, অ্যাবসলিউট বলে কিছু হয়না, সে কথাও আমি মানতে রাজি। সেকেন্ডলি, আমি আগে বলতাম সবাইকে বুঝতে হবে অন্য একটা লোকের পার্সপেক্টিভ, আর এখন বলছি পোদ মারাও। আমি আশা ছাড়ি নি, ছাড়লে এইগুলো লিখতাম না, কিন্তু ঐ শশাঙ্ক রিডেম্পশনের মত ধেই ধেই করে সেলিব্রেট করার কথাও ভাবছি না। সরকারের মতোই, "পিপল গেট" দা প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস "দে ডিসার্ভ"। যুগ যুগ ধরে এই চলছে। সামনেও এই চলবে। অবশ্য ছোটো ছোটো স্পেস, প্রান্তিক বাবলগুলো কে বেশি মর্যাদা দেব, কিন্তু সেটা একান্তই আমার চয়েস যেটাকে আজকাল বলা হয় IMO। আমি উৎকর্ষের চেয়ে মৌলিক/স্বাধীন মতামত কে বেশি পছন্দ করি, সেটার কারণ অন্য। আজকাল অনেক কিছুই খারাপ হচ্ছে, কিন্তু সেটা খারাপ হওয়ার ধর্ম, আজকালের নয়।

কারণ খারাপ সব সময়েই হয়ে এসেছে। আই মীন, যে জিনিসগুলো তথাকথিত খারাপ।এখানে পাইরেটস অফ দা ক্যারিবিয়ানের খারাপ ভালোর পার্থক্য ভুলে যাওয়ার কনসেপ্টটাও দ্রষ্টব্য। প্রাচীন যুগে ঐ একজন করে আর্কিমিডিস, বা খনা, বা সত্যকাম, বা পারসিয়াস, বা বিদ্যাসাগর, বা আনন্দী গোপাল, বা ডায়োজিনিস ছিলেন। কিন্তু বাকিদের, যাদের ইতিহাস পাওয়া যায় না, তারা তো বেকার। একবার যদি নিজের টিমটার প্রতি ঝলক দেওয়া যায়, বোঝা যাবে বেশির ভাগ লোকই অকর্মন্য। এই যে ন্যাশনাল টিমে লোকের জায়গা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে, সবই কি আর পলিটিক্স?! দেখবেন বেশির ভাগ নেতা ও মন্ত্রী করাপ্টেড বা বেশির ভাগ শর্ট ফিল্ম জঘন্য। কারণ, এটাই নিয়ম এবং বেল কার্ভ। ২০০০ টা গল্পও ছাপালে ৫০ টা অসাধারণ হবে, ২০০ টা ছাপালে ৫ টা। সেই জন্যেই, কোয়ালিটি পাওয়ার জন্যে কোয়ান্টিটি এত প্রয়োজনীয় একটা ফ্যাক্টর। অবশ্যই সবাই কবি নয়, কিন্তু "সকলেই" চেষ্টা করছে বলেই "কেউ কেউ" উঠে আসছে। এটা বলছি না যে ইচ্ছে করে বাজে কাজ করতে হবে, কিন্তু অর্গানিক্যালি এইটাই হয়ে এসেছে আর এর থেকে কোনো মুক্তির পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না

এই রকম ভাবে শুরু করা যাক তাহলে। খুব, খুব সিনিক। কি করব বলুন। প্যাসিভলি দেখতে গিয়ে, যাকে সংস্কৃতে তটস্থ বিচার বলা হয়, আর কোনো প্যাটার্ন খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরে জানবেন পয়সা করাপ্টস এভরিথিং। এই যে অ্যাদ্দিন ধরে একটা পুঁজিবাদী দেশে থেকে ভুঁড়ি বাড়াচ্ছি, তার একটা তো কুফল পাওয়া যাবে। অ্যানিমাল ফার্মে বলা হয়েছে ক্ষমতা করাপ্টস । কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যাবে, এটা যে কোনও কনভেনিয়েন্সের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেখবেন পুরোনো সিনেমায় ভানু ব্যানার্জির ছেলে [সৌমিত্র] বিদেশে থাকতো আর অনেক গুলো বদ-অভ্যাস নিয়ে দেশে ফিরত। সেটা আমেরিকা বলে নয়। টাকা আছে বলে। আমেরিকা তে এসে সৌমিত্রকে যদি মল বা দোকানে কাজ করতে হত, তাহলে হয়ত একটু বেশি বিনম্রতা পাওয়া যেত। ফিরে আসি সেই সেল্ফ জাস্টিফিকেশনে, আমার দোষ নেই মা, এই যে ক্ষমতা বা অর্থের প্রাচুর্য, তাতেই আমি নষ্ট হয়ে গেলুম। আজকাল অবশ্য খ্যাতিকে এদেরই স্যাঙাত বলা চলে। এই রকম একটা ডার্ক এবং আনসেটলিং মুড নিয়ে এবার কামব্যাক করা যাক। মাঝে মধ্যে অবশ্য মুড সুইং হতেই পারে। সবার উপর কনটেন্ট সত্য, তাহার উপর মাই

Thursday, April 19, 2018

Shameful Series Of Pretentious Intellects - Year 2 Vol 2 : Recurring Female Movie Characters Alphabets


Friday, December 30, 2016

Shameful Series Of Pretentious Intellects - Year 1 Vol 1 : Recurring Female Movie Characters Alphabets


Monday, November 7, 2016

দ্য বিগ শর্ট - ডকু আর ফিচারের বিভাজন রেখা

এবারে বাড়ি থেকে ফেরার সময়ে প্লেনে একটা সিনেমা দেখতে দিয়েছিলো - "দ্য বিগ শর্ট"। ২০০৭ সালে আমেরিকা জুড়ে আর্থিক মন্দার কারণ-টারণ, কয়েকজন অতি-জিনিয়াসের সেই ব্যাপারে পুর্বাভাস দেওয়া, আর - অবভিয়াসলি - কেউ তাদের পাত্তা দেয় নি, সেই নিয়ে গল্প। বইটা নিয়ে বলার কারণ হল এতে একটা ব্যাপার এত বেশী করে আছে যেটা প্রায় আর রিসেন্টকালে দেখি নি আমি। সেটা হল প্রচুর টেকনিকাল ব্যাপার এবং শব্দের ব্যবহার যেটার সাথে সাধারণ দর্শকের কোনোও পরিচয় নেই। টেকনিকাল বলতে অর্থনীতি রিলেটেড। প্রশ্ন আসতে পারে যে, একজন বাঙাল না হয় "মর্টগেজ","ট্রিপল-এ" এইসব টার্ম বুঝতে পারবে না, কিন্তু ফিল্মটা তো মার্কিন নাগরিকদের জন্যে বানানো। কিন্তু উল্টো তর্ক করলে বলতে হয় "বিশ্বাস করুন, একজন গড় আমেরিকানও ওই দুটো শব্দই জানে আর এতে আরো দুশোটা ওরকম ব্যাপার চোদানো হয়েছে"। এমনকী, কয়েকটা ব্যাপার এতো কঠিন যে একটা নায়িকা, এক রাঁধুনী, একজন গায়িকা এবং আরেক আর্থ-সমাজতাত্ত্বিককে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে (ক্যামিও) সহজভাবে বুঝিয়ে ফেওয়ার জন্যে। রকেট সিং করার সময়েও পরিচালক অ্যাতো চাপে ছিলেন না আরো বড় কথা, একটি চরিত্র তো প্রায়ই চার নাম্বার দেওয়াল ভেঙে টেঙে আমাদের বোঝাচ্ছিলেন যে এই সীনটা যদি না বুঝে থাকেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। তা কথাটা হল, কতটা পরিভাষা বলা যাবে ফিল্মে। এখানে একটা আননোন ভাষায় সিনেমার কথা হচ্ছে না, কারণ তাতে সাবটাইটেল থাকে। এখানে বলা হচ্ছে মানুষের "শাশ্বত অনুভূতি" কতটা কম রাখা যাবে সেই নিয়ে। এবার তাতেও ঝামেলা আছে। কারণ একজন বাঙালীকন্যার পক্ষে যা "ফ্যাদড়া প্যাঁচাল" সেটা একজন অ্যামাজনকন্যার কাছে "দৈনিক রুটিন" হতে পারে। উল্টোটাও যেমন সত্যি, কথাটা ছেলেদের ক্ষেত্রেও খাটে। অতএব, সেই নিয়ে তর্কটা আপাততঃ তুলে রেখে দেখা যাক একজন সাধারণ লোকের শাশ্বত অনুভূতির দৌড় কতটা। মানে মেজরিটি জনসমাজের সাধারণ লোক। মানে আনন্দবাজার আর গুগল যাকে মেজরিটি বলছে।

আমরা নতুন জিনিস দেখলে খুব খুশী হই। নতুন মানে কিন্তু একধাপ নতুন। অন্য গ্রহ-টহ আমাদের কাছে জলভাত হয়ে গেছে, কিন্তু "গ্রাভিটি"ই বুঝতে পারলাম না। এখন তো আমাদের দেশেও টাইম ট্রাভেল নিয়ে গল্প দেখানো হচ্ছে, "ইন্টারস্টেলার" দেখে বুঝি না বুঝি, নোলানের জন্যে নতুন ধুপকাঠি কিনে আনলাম, এদিকে "প্রাইমার"এর নামই জানি না। কয়েকজন তো "সোশাল নেটয়ার্ক" (যেটা আসলে কিনা কোর্টরুম ড্রামা) দেখে নাকি অ্যালগোরিদম শিখছিলো শুনেছিলাম, এদিকে ম্যাট্রিক্সের পরের পার্টগুলো কেন খারাপ সেটা জিগ্যেস করলে বলে "সেই তো একই অ্যাকশন"। স্নব, আঁতেল যা ভাবার ভাবুন - মোদ্দা কথা হল বাংলায় বা হিন্দিতে ভালো টেকনিকাল বই নেই। টেকনিকাল বলতে আমি নন-"শাশ্বত অনুভূতি"-বেসড থীমের কথা বলছি। তাও একবার "শিপ অফ থিসিয়াস" হয়েছিলো, সেটা নাকি আমির খান থেকে কমল রশিদ খান সবাই হা করে দেখেছিল। তারপরে আর আনন্দ গান্ধী বা প্লুটার্কের কোনো খবর পান?! কেউ "বার বার দেখো" ভালো বলছে না শুনে মনে হচ্ছে মালটা হেব্বি দাঁড় করিয়েছে, কিন্তু পাবলিককে ভরসা নেই। এমনকী পুলিশ স্টেশন বেশীক্ষণ দেখালেও লোকে হিরো আর হিরোইন অকর্মণ্যতার কথা বলে। এটা শুধু ভারতবর্ষে নয়, মেঘালয় থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত বর্ষে বর্ষে, দলে দলে রিপিট হয়ে আসছে। তো সেই হিসেবে, "দ্য বিগ শর্ট" একটা ডকুমেন্টারি হওয়ার কথা। কারণ আমরা হেট স্পিচ আর প্রোপাগান্ডা কিল্ম ছাড়া কোনো তথ্যচিত্রের নাম জানিনা। কিন্তু এটাকে ডকুমেন্টারি বলা যাবে না, কেননা লোকে পার্ট করছে। তাহলে কি এটা সেই "সাবধান ইন্ডিয়া" বা "ক্রাইম প্যাট্রোল"এর মত ডকুড্রামা?! এখানে বলে রাখা ভালো, এগুলোকে অভিহিত করা হয় "মকুমেন্টারি" বলে। মানে মক ডকুমেন্টারি আর কি। মানে খুব আনস্ক্রিপ্টেড একটা ব্যাপার মনে হবে, যেখানে ক্যামেরাকাজ মাঝে মাঝে খুব জার্কি ও গেরিলা টাইপের হবে। রিয়েল লোকেশন আর মানুষজন থাকলে ভালো হয়। আবার আমি অপারগ, দেশী বইয়ের নাম মনে পড়ছে না। ল্যারি চার্লসের "বোরাট" বা "ব্রুনো" হালফিলের খুব পরিচিত নাম। ব্যাপার হচ্ছে, এই আমাদের মত "শাশ্বত অনুভূতি"-ওয়ালা লোকজন সবকিছুকে একটা নিয়মের মধ্যে ফেলতে ভালোবাসি। যাকে রবীন্দ্রনাথ তাসের দেশে খুব করে বকেছিলেন, আর জোকার "দ্য ডার্ক নাইট"এও বেশ কাঁচকলা দেখানোর চেষ্টা করেছিলো। আমরা কি করি, কিছু না মিললে বলি ওটাই নতুন ফর্মুলা। আজকাল বন্ধুত্বের সিনেমাগুলোকে বলা হয় "ব্রোমান্টিক মুভিজ"। ওই "স্টার ওয়ার্স" আর "স্টার ট্রেক"এর সাফল্যের পরে প্রচুর একই থীমের ছবি বানানো হত। যেগুলোতে অন্য গ্রহে লোকজনের গুলিগালা দেখানো হত, সেগুলোকে বলা হত "স্পেস ওয়েস্টার্ন"। বালের ক্যাটেগরাইজেশন সব। তেমনিই, মকুমেন্টারি বলে আলাদা আদিখ্যেতা করার কিছু নেই। কিন্তু এগুলোকে ডকুড্রামা বলারও বিপদ আছে। কারোন খুব একটা মৌলিক পার্থক্য হল (সো-কলড) মকুমেন্টারি আসলে আসল স্থান-কাল-পাত্রের মধ্যে দেখানো নকল ঘটনা, আর (সো-কলড) ডকুড্রামা হল নকল লোকদের নিয়ে বানানো আসল স্থান-কাল-পাত্র। আবার বলছি, আসল নকল বলছি আমাদের জ্ঞান ও অনুভূতির বিচারে। এই লেখায় কোনো "শাশ্বত" কথা ইউজ করার সাহস পাইনি। অন্যদিকে, কেনই বা বলা যাবে না এই নিয়েও তর্ক চলতে পারে। কারণ, "ডেথ অফ এ প্রেসিডেন্ট" নাকি একটা ডকুড্রামা।

আর দুটো ঘটনার নাম বললে পরের রিভিউগুলোয় যাবার একটা পোর্টাল তৈরি হয়। এক, ঋতুপর্ণ ঘোষের "জীবনস্মৃতি - সিলেক্টিভ মেমোরিজ"। ভাবা যায়, বাঙ্গালীর প্রিয় ঋতুপর্ণ-কে "চিত্রাঙ্গদা"র থেকেও বেশী খিস্তি শুনতে হয়েছিলো এই রবি-ডকু টি করে। এখানে ভদ্রলোক অসম্ভব একটি কাজ করেছিলেন যেটা ইউরোপীয় আর্টফিল্মে হয় বলে শুনেছি। ল্যারি চার্লসও প্রচ্ছন্নভাবে করেছিলেন "রিলিগুলাস" বলে বিতর্কিত একটি ছবিতে। সেটার মার্কেটিং ফিচারের মত হলেও আদতে একটা ডকুমেন্টারি ছিলো। তা কী সেই ব্যাপারটা, না, আবার সেই ব্রেকিং ফোর্থ ওয়ালের তত্ত্ব। যেটা ওই ব্লগটায় লিখতে ভুলে গেছি, সেটা হল, দেওয়াল ভাঙ্গার অধিকার শুধু অভিনেতাদেরই নেই। প্রথমতঃ, তখন মোটামুটিভাবে ক্লাসিক ফিল্ম স্টাইল নিয়ে বলা হচ্ছিল, যেখানে পরিচালক হুট করে সীনে ঢুকে পড়েন না। ফিচারে তো নয়ই*, ডকুমেন্টারিতেও বাহুল্যে। ঋতুপর্ণ করলেন কী, উনি রবিঠাকুরকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেন ও ভালোবাসেন (বা সার্কাজম ধরলে উল্টোটা) সেটাও স্ক্রিনে দেখালেন রবিজীবনের পাশে পাশে। আরো মারাত্মক - ওই শহুরে মানুষটাকে বোলপুরে শুটিং করতে গিয়ে কি গরম আর কষ্টের মধ্যে থাকতে হয়েছে। তথ্যচিত্রের একটা লক্ষণ যদি সততা হয় তাহলে তো এই ব্যাপারটা প্রায় পর্নোগ্রাফির মত সৎ। কিন্তু বাঙালী ইমিগ্রেশন অফিসারের মত। কিউ আর ঋ এর নাম বুঝতে না পেরে বাঙালী "তাসের দেশ"কে হতচ্ছেদ্দা করে ক্ষমা করে দিয়েছিলো, এবারে আর ছাড়ান নেই। যদিও ডকুমেন্টারিতে ডিরেক্টরকে দেখানো কিছু মারাত্মক অপরাধ নয়, তবুও ছোটোবেলা থেকে শুনে এসেছি ডকুমেন্টারি হবে খবরের মত নিরপেক্ষ। সেখানে নির্দেশকের মতাদর্শ হইবে পোকারফেসের ন্যায়, আর বাকি ক্রু বোকার বেশে থাকিবে। তা খবর যখন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে জন্মলগ্ন থেকে - কিংবা হয়তো তার দরকারও ছিলো (গণশক্তির ক্লিশে হওয়া ট্যাগলাইন দ্রষ্টব্য) - তখন ডকুমেন্টারিই বা বাদ যায় কেন। তবুও গনজো জার্নালিজমের মত গনজো ডকুমেন্টারিকেও মানিনি আমরা। এবারে দুই নাম্বার বই - সত্যজিৎ রায়ের "র‍্যাবিন্দ্রানাথ টেগোর"। তারো স্টাইল সেম, ডকুড্রামার পাশে ডকুমেন্টারি। কিন্তু জনগণের আর ফিল্ম-ক্রিটিকদের মনেই নেই যে সেখানেও যখন মানিকবাবু ন্যারেট করছিলেন, সেখানেও তার গলা থেকে জায়গায় জায়গায় দরকারমতো শ্রদ্ধা/বর্ণনা/সমালোচনা ঝরে পড়ছিলো। আমরা সবাই মূর্তিপূজায় বিশ্বাসী।

আবার সেই কথা ঘ্যানঘ্যান করার, যে লোকটা সিনেমা বানাচ্ছে, তার ইচ্ছেমত সে টেকনিকাল জারগন্স বলতে পারে। সে অভিনেতা-পরিচালক তো বটেই, পারলে ক্যামেরাম্যান আর ক্যামেরাকেও সিনেমাতে নিয়ে আসুক। ডকুমেন্টারি কে প্রোপাগান্ডা ফিল্ম বানাক। কিন্তু একটি ক্যাচ আছে। ঠাকুর বলেছেন, যত মত তত পথ। তা সিনেমার ফর্ম বা কনটেন্টের বেলায় এই তত্ত্ব খাটলেও উদ্দেশ্য কিন্তু দুরকম। দেশ বা পাড়ার সম্মান টম্মানের বার না খাইয়ে দিলে, মোটামুটি সকল আর্টের লক্ষ্যই বিনোদন। দুরকম বললাম, কারণ বিনোদন ভদকা নয় বলেই এর কোনো অ্যাবসোলিউট যাপন নেই। হেন্স, (১) নিজের এবং (২) অন্যের বিনোদন। এবার যদি আমি নিজের জন্যে ছবি বানাই, তাহলে কিন্তু পয়সা নেই পয়সা নেই করে প্রোদিউসারের কাছে রেন্ডি-রোনা করা যাবে না। কারণ বিপদ বুঝেই গাড্ডায় নামা হয়েছিলো। আর যদি একটা স্পেসিফিক জনতার জন্যে বানাই, তাহলে নিজের ভালোলাগা মন্দলাগা আলমারিতে ন্যাপ্তহলিন দিয়ে কদিন বন্ধ করে রাখাই ভালো। কারণ, ওই বাংলা সিরিয়ালে যেমন বলে, "হাতের পাঁচটা আঙুল সমান হয় না"। কিছু কিছু গাণ্ডুদের তো শুনেছি "নো কান্ট্রি ফর ওল্ড মেন" ও তিন-চার বার করে দেখে। অবশ্য যে ওল্ড ম্যানের কথা (না রে বাবা রবীন্দ্রনাথ না) বারবার করে বলছি, তার একটা রিসেন্ট কাজ বলে শেষ করি। ভদ্রলোক এতদিন চরম কিছু ছবি বানআনোর পরে এবারে নিকোলাস কেজকে নিয়ে ভেবেছেন, অ্যান্ড ইয়েস, হী ইজ প্রাক্টিক্যালি ওয়ার্কিং ফর দ্য গড (অফ ইন্টারনেট)। কী ভেবেছেন দেখা যাক



~এবারে বই কেমন হল সেটা~
দেখুন, সিনেমাটা বানিয়েছেন স্টিভ ম্যাকি বলে একজন যিনি নাকি আগে "অ্যাঙ্করম্যান" আর "ট্যালাডেগা নাইটস"এর পরিচালক ছিলেন। সেখান থেকে এই সিনেমায় আসা একটা উত্তরণ। স্করসেসের থেকেও ভালো কারণ "রেজিং বুল", "ক্যাসিনো", "গুডফেলাস" বা "উলফ" আসলে একই সিনেমা। এই উত্তরণকে প্রায় আনন্দ গান্ধীর সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট থেকে "শিপ অফ থিসিয়াস" বা শিরীষ কুন্দরের "জোকার" থেকে "কীর্তি"তে আসার মত। আমি এন্টারটেনড। কয়েক মাস ধরে ভাবছিলামই যে এটা দেখবো দেখবো, ইন্টারনেটে সাবটাইটেল পাচ্ছিলাম না। তা দেখলাম, ওইসব হাবিজাবি টার্মস বুঝতে না পারলেও সিনেমা তরতর করে এগোচ্ছে। এডিটিং চমৎকার। অতগুলো স্টার কাস্ট করেও ধ্যাড়ায়নি। মার্গট রবির প্রেমে পড়ে যাই ওর যেকোনো সীন দেখলে, এখানেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। গল্পের প্রিলিউড, রেজলিউশন টেক্সটবুক এবং দারুণভাবে এক্সিকিউটেড। শেষে কী হবে জানা থাকলেও ক্লাইম্যাক্সগুলোতে টেনশন কম হয়নি। সাইড রোলেরা মুখ্য চরিত্রদের থেকেও ভালো। সবচেয়ে বড় কথা, সিনেমাটার যে একটা অন্তর্লীন প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা ছিল, সেটা প্রায় সার্থক। এমনিতেই বাড়ি থেকে ফেরার সময়ে ঝাঁট জ্বলে ছিলো, এই বইটা দেখে আমেরিকায় ফিরতে ভয় ভয় করছিলো। নেহাত বাজে কিছু বলতে হয় বলে বলছি, স্টিভ ক্যারেলের রোলটাকে একটু বেশীই মানব্দরদী বলে দেখিয়েছে, সে যতই তার ভাইয়ের মৃত্যুতে কাতর থাকুক না কেন।

__________________________________________________
*এসব অবশ্য আদিমকালের কথা। এখন আমাদের দেশে ফিল্মে যা শুরু হয়েছে, পরিচালক অন্য পরিচালকের বইতে অভিনয় করছে, তিনি আবার তার প্রতিদান দিচ্ছেন, ক্যামেরাম্যান সিনেমা বানাচ্ছে, মিউজিক ডিরেক্টর স্টিল তুলে দিচ্ছে, এডিটর ব্যাকগ্রাউন্ড মারাচ্ছেন, পরিচালক প্রি-রিলিজ ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, অ্যাক্ট্রেস প্লেব্যাক গাইছে, সিঙ্গার ওয়ারড্রোব সামলাচ্ছেন - পুরোই মাল্টিডাইমেনশনাল সুব্রত মুখো কেস। লাস্টেরটা অবশ্য বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে স্বাভাবিকটাই লিখে ফেললাম, না?!