Sunday, February 2, 2020

"সংবাদ প্রতিদিন শতাব্দীর সেরা ৫"//"Best 5 Bengali Films For 100 Years" [November 15th, 2018/REpublish]

যেটা তরুণবাবু ওনার মন্তব্যে বলেছেন অলরেডি, বাংলা বই গুলো সব এত এত প্রিয় যে বেস্ট ফাইভ বানাতে বেশ বেগ পেতে হলো। একটা লিস্ট তো চোখ বুঝে বলে দেয়া যায়, মোটামুটি ডিরেক্টরদের ভিত্তিতে  - 'পথের পাঁচালী' (বা পুরো অপু সিরিজটাই), 'আকালের সন্ধানে', 'যুক্তি তক্কো আর গপ্পো', 'গল্প হলেও সত্যি' আর 'উৎসব'। এসব নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও লিস্ট আরো লম্বা হওয়ার কথা। তাই ধরা যাক, বাংলায় সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিক, তপন আর ঋতুপর্ণ এইগুলো কিছু বানান-ই নি, তাহলে আমার মতে সেরা পাঁচ হবে এই রকম :

পাতালঘর
আমার দেখা সেরা বাংলা বই। অনেকে টেকনিকাল ভুলত্রুটি নিয়ে মাতামাতি করেন কিন্তু এই ফিল্ম কয়েকটা ব্যাপারে তখনকার সমস্ত সিনেমার থেকে এগিয়ে ছিল। প্রথমত, আসল গল্প থেকে যে চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে, তার কোনো তুলনা নেই। এমনকী, এই এডাপটেশন মনে হয় সত্যজিতের থেকেও ভালো ছিল। দ্বিতীয়ত, ২০০৩ বা ২০০৪ সালে আমি টিম বার্টন এর নাম ও শুনিনি; পাতালঘর চিনিয়েছিলো গথিক বলতে কি বোঝায়। তৃতীয়ত, কাস্টিং - এটা ঠিক আঁসাঁব্ল না হলেও প্রত্যেকটা চরিত্র, ভালো বা ভিলেন, যত্ন করে বানানো হয়েছিলো। চতুর্থত, সংগীত যা একাধিক সেমিনার দাবী করে। দেবজ্যোতি মিশ্র, এই বইটার নির্দেশকের মতোই নিজের পোটেনশিয়াল অনুসারে বলতে গেলে কিছুই পাননি আমাদের থেকে। আর সর্বশেষে, সেই লেভেলের হাস্যরস যা শীর্ষেন্দুর লেখাতে ভালো খারাপ নির্বিশেষে সব চরিত্রের উপরে সমানভাবে বন্টিত, এখানে আমাদের পরিচালক তার যথার্থ উদযাপন করেছেন।
কোনি
আমাদের দেশে স্পোর্টস-মুভি নেই বললেই চলে। আজকাল টুকটাক কিছু লোক বানাচ্ছে বটে কিন্তু দেখবেন তেমন ভালো কিছুই নেই। কোনি কিন্তু বাংলার প্রথম বা শেষ স্পোর্টস-মুভি নয়। এমনকী এই বইটা বাংলার সাধের ফুটবল, বা হকি, বা কাবাডি নিয়ে নয়। এমন একটা খেলা, যাতে অদূর অতীতে ও ভবিষ্যতে, আমাদের কোনো আন্তর্জাতিক মেডেল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তদুপরি আছে পার্সপেক্টিভ এর কনসেপ্ট। এই সিনেমাটা যতটা না কনকচাঁপার, ততটা তো ক্ষিতিশের-ও বটে। এই সেই সিনেমা যেখানে তৎকালীন নাম্বার ওয়ান বা নাম্বার টু হিরো, খেলোয়াড় না করে কোচের রোল করছে কিন্তু সেটা নিয়ে এমন কিছু লাফালাফি হয়নি আজ পর্যন্ত। এবার আসল কথা বলা যাক। এই বইটা আমার মায়েরও খুব ফেভারিট মনে হয়। কারণ বারবার এটা দেখতে বলতো, যদ্দুর সম্ভব ইনস্পিরেশন ফুয়েল টুয়েল দিতে। ওই যে জুপিটার, অ্যাপোলো আর মাদ্রাসের কম্পিটিশনে শয়ে শয়ে সুইমসুট পরিহিত টিনেজার্স, ওই সব অবাধে, ঘরে বসেই দেখার সুবিধা হয়েছিল এই বইটার দৌলতে।
হারবার্ট
এরকম ও যে হতে পারে, আমাদের কোনো আইডিয়া ছিল না। আজকাল নতুন ট্রেন্ড হয়েছে, নর্থ কলকাতার নস্টালজিয়া। এই বইতে সেটা, আদিখ্যেতা না করেই, যেভাবে দেখিয়েছিলো, তাকে কুল না বলে উপায় নেই। তার উপরে, অভিনেতারা স্ক্র্রিন পুরো মাতিয়ে রেখেছেন - সব্যসাচী, ব্রাত্য, দেবশঙ্কর, বিমল, জয়রাজ, লিলি, এমনকী সুমন (:D)। হারবার্টের পাড়ার বন্ধু আর যুক্তিবাদী সমিতির সদস্যদের রোলগুলো যারা করেছিলো, প্রত্যেকে একটা পুরো সিনেমা টেনে নিতে পারে। শুভাশিসের নামটা ইচ্ছে করেই বললাম না কারণ, সেটা আরো দুটো লাইন দাবী করে। এই ভদ্রলোককে আমরা শিল্পান্তর (তখনও দেখিনি) বাদে সারাজীবন জনি লিভারের বাংলা ভার্সন করতে দেখেছি, সেইখান থেকে হারবার্ট তো নিঃসন্দেহে বিশাল একটা উত্তরণ। তা ছাড়া, এই যে নায়কের যে চরিত্র, সেটা কী, না একটা লোক যে ভূত নামায়। সিনেমায়, বা তথাকথিত বাকি পাঁচটা শিল্পমাধ্যমে, যুক্তি বা উদারনীতিকে মোটের উপর পজিটিভ ভাবেই পেশ করা হয়। এখানে দেখবেন, যুক্তিবাদী সমিতিই খলনায়ক। অনেকে বলবেন নবারুণ এর লেখাটাও একটা জবরদস্ত রাজনৈতিক টেক্সট, কিন্তু এই যে নন-লিনিয়ার নাট্যরূপ দিয়েছিলেন সুমন, তার ক্রেডিট কিন্তু ৫০%। আমার মনে আছে, কয়েক জন আঁতেল বন্ধু বলেছিলো, "বইটা না পড়া থাকলে ফিল্মটা আদ্ধেক বুঝতাম না”।
সাড়ে চুয়াত্তর
বেশি কিছু চেঞ্জ না করে এই গল্পটা নিয়ে আজও প্রিয়দর্শন বা সেথ রোগেন বা মৈনাক ভৌমিক একটা দুর্দান্ত ফিল্ম বানিয়ে ফেলবেন। কথাটা বলছি কারণ কিছু বোদ্ধা আর্টের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে খুব বাতেলা মারেন। আর কিছু বাতেলাবাজ 'কাঞ্চনজঙ্ঘা' কে প্রথম ফিল্ম বলেন যেখানে একটা পুরো ফ্যামিলিকে হিরো রাখা হয়েছে। কিন্তু নির্মল দের ফিল্মোগ্রাফি দেখলে বোঝা যায় যে উনি এই থিমটাকে কোথায় নিয়ে গেছিলেন, যার সর্বশ্রেষ্ঠ এক্সেকিউশন ছিলো 'সাড়ে চুয়াত্তর'এ। এই বইটায় আরো কত গুলো আধুনিক উপাদান আছে যা দেখলে ঘাবড়ে যেতে হয়। যেমন ওই 'আমার এ যৌবন' গানটায় যে অসাধারণ ক্যামিওগুলো, দেখে মনে হয় এটা ১৯৫৫-এর আগে বানানো?! একটা পয়েন্ট তো সর্বদা জ্বলজ্বল করবে "বাংলা ও বাঙালীদের মননে" - উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেনের প্রথম বই এটা। তুলসী চক্রবর্তী আর মলিনা দেবী এই ফিল্মের টপ-বিল্ড স্টারকাস্ট ছিলেন, তার ও তো কোনো তুলনা হয়না। আর সেই মেস, কাকে ছেড়ে কার কথা বলি; সবাইকে এখন লোকে পারলে পুজো করে। সিনে-মা, কী ছিলেন, আর..
বেদের মেয়ে জোসনা
এইটা ঠিক আমার খুব প্রিয় সিনেমা না, কিন্তু যাকে বলে ফেনোমেনাল, সেই ব্যাপার। খুব সাধারণ গরীব/বড়োলোক এর ক্লাশ ও প্রেমকাহিনী। আমরা তো আত্ম-বিস্মৃত জাতি, তাই কোনো আর্কাইভ ও নেই, নাহলে সঠিক জানা যেত এটা সত্যি সত্যি সর্বকালের সেরা হায়েস্ট-গ্রসিং বাংলা বই কিনা। তারপরে একটু পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকারও দায় বর্তায়। বাংলাদেশের সিনেমা সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ফান্ডা নেই, কিন্তু যখন বলা হচ্ছে একশো বছর, কিন্তু আসলে তো তখন আলাদা আলাদা ছিলো না। তাই একটা এন্ট্রি ফ্রম ওই পার। হয়তো 'ঘুড্ডি', 'পদ্মানদীর মাঝি', 'মাটির ময়না', 'সূর্য দীঘল বাড়ি' বা 'ফার্স্ট পারসন..' বললে একটু কেত হতো, কিন্তু এই বইটা সেই জাতির জন্যে যারা নিজেদের জন্ম-আর্টিস্ট মনে করে করে এই ফিল্মটাকে পাত্তাই দিলো না। একদিন হবে দেখবেন, মার্টিন স্কোর্সেসের একটা টীম এটার ডিজিটাল রিস্টোরেশন করবে।

__________
*# এই জিনিসটা একটা প্রতিযোগিতার জন্যে লেখা। প্রিডিফাইন্ড ফ্যাভ-লিস্ট থাকতেও কেন অল্টারনেটিভ বইগুলো নিয়ে লিখলাম, সেটা বোধহয় একটা সিনেফিক্সের ভিডিও থেকে অনুপ্রাণিত। যাই হোক, এই সেম লিস্টটা আমি আইএমডিবিতেও দিয়েছি। অ্যামাজনেও, কিন্তু ওরা বোধ হয় এখনও বাংলা ফন্টে রিভিউ গ্রহণ করছে না। যাই হোক, এটাকে আবার ক্যানোনিক্যাল বলে ভেবে নেবেন না

ANURAG/DIBAKAR : rat race of intellectual indies

এটা অনেক মাস ধরে মাথায় ঘুরছিল। লং আ্যাওয়েটেড টাইপের আর কি। টেরি গিলিয়াম ১৫ ২০ বছর ধরে যেমন ডন কুইক্সোটের গল্প নিয়ে একটা বই বানানোর চেষ্টা করছেন, হচ্ছেই না। বা ওয়াচমেন নিয়ে যে বইটা হয়েছিল ২০০৭ এ, সেটাও তো প্রচুর হাত ঘুরে তারপরে জ্যাক স্নাইডারের কাছে এসেছে। হামবড়াই ছেড়ে কাজের কথায় আসি। প্রথমেই বলে রাখি আরও কোটি কোটি লোকের মত, আমি এই দুজনের বিশাল বড়ো ফ্যান। না, সত্যি। দুজনেই সমাজকে দারুন দারুন সব বার্তা ও ব্যাখ্যা দেন বটে, কিন্তু একটু ভালো করে দেখলেই বোঝা যাবে কি অসাধারণ ক্র্যাফট এই দুজনের। কিন্তু এটা নিয়ে সবাই লিখেছেন [তার মানে এই না যে আমি আরেকটা লিখতে পারি না, ইচ্ছে আছে ওনাদের ফিল্মোগ্রাফি নিয়ে একটা ব্রেকডাউন বানানোর কখনও]। মোইফাইটক্লাব বলে একটা ব্লগ আছে। তাদের তো ওনাদের চেটেই এক সময় দিন গুজরান হত। কিন্তু এই লেখাটা সেই নিয়ে নয়। এমনকি এটা ওনাদের ড্রব্যাক খুঁজে বার করারও না। দুজন দুজনের কি রকম পোদ চাটেন, এই নিয়ে একটু মজা করার ইচ্ছে অনেক দিনের, ব্যাস

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় একবার একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নাকি খালি দুটো জিনিস হয়, ব্যাকস্ট্যাবিং আর ব্যাকস্ক্র্যাচিং। অবশ্য এটা সমস্ত ইন্ডাস্ট্রিতেই সেম :P। দ্বিতীয় ব্যাপারটার অসাধারণ উদাঃ হল, আমাদের মাননীয় দুই রোস্টী, অনুরাগ ও দিবাকর। অবশ্য খুব লং রানে দেখলে বোঝা যাবে, অনুরাগ কাশ্যপের সাথে এই রকম পেয়ার আগেও দেখা গেছে। একসময় বিশাল ভরদ্বাজকে একাসনে দেখা হত ওনার সাথে। যদিও এটা ভুল, কিন্তু সেটা বলার স্কোপ এই ব্লগটায় নেই। তারপরে ইমতিয়াজ আলি, অনুরাগ নিজেই হাজার হাজার ইন্টারভিউতে বলতেন এনার কথা, যে এক সাথে কেমন করে বোম্বাই এসেছিলেন, সিরিয়াল লিখছিলেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। যেন কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনো আর রবার্ট রড্রিগেজ [হা হা]. একটা টাইমে তিগমাংশু ধুলিয়া, সুধীর মিশ্র। কিন্তু সব চেয়ে লম্বা যে সম্পর্কটা টিঁকলো, সেটা হল দিবাকর ব্যানার্জির সাথে। দুজনেই প্রথম দিকে খুব রাগ ও ইন্ডি ফিল্মমেকারদের কষ্ট নিয়ে কেত্তন করতেন, আর এখন জাস্ট সিউডো-গে-পনা চোদান

প্রথমে আসি, কাস্টিংএ। এই যে লাস্ট দশকে খুব একে অপরের প্রাইম লীডকে নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছিলেন বোম্বাইয়ের ডিরেক্টরেরা, এটার ফ্ল্যাগশিপ পুঁতেছিলেন এই দুই ভদ্রলোক। আর নোংরাও করেছেন এই দুজনেই। একটু উপর থেকে দেখলে বোঝা যাবে, পারেশ রাওয়াল ওনাদের ফিল্মে সিঙ্ক খান না। তাও নো স্মোকিংএ ওনার কাজ দেখে ওয়ে লাকি লাকি ওয়ে-তে উনি তিন বাবার রোল পেলেন। দেওল পরিবারের সবচেয়ে কম খ্যাত ও সবচেয়ে বেশি আলোচিত অ্যাক্টরকে নিয়ে দুজনেই একে সময়ে সিনেমা তুললেন। দুটোই দিল্লি বেসড। সাংহাইতে কল্কিকে কাস্ট করা হল। সিনেমা দেখে হল থেকে বেরিয়ে আসার পরে অনুরাগ কাশ্যাপ বললেন "অসাধারণ ছবি"। দিবাকর আবার আরো বেশি মেটা, উনি বললেন "অনুরাগ এটা বলছে কারণ ওঁর বৌ আছে"। গ্যাংস অফ ওয়াসেপুরের কতগুলো প্রেস মিটে তো দিবাকর নিজেই গামছা পরে [literally] প্রোমোট করেছেন। গ্যাংসের বড়ো দুজন কাস্ট, রিচা চাড্ডা আর রাজকুমার রাও, দিবাকরের সিনেমার আবিষ্কার বলা যায়। অবশ্য এই সবের এপিকনেস এক দিকেই যাওয়ার ছিল, যাকে সাহেবরা অ্যান্থোলজি বলেন। যদিও রাম গোপাল ভার্মা, সঞ্জয় গুপ্তা, এবং আরও অনেকে আগেই এটা করে গেছেন [দশ কাহানিয়া, মুম্বাই কাটিং], তবু ভারতীয় ইতিহাসে বোম্বে টকিজের জন্যে আশি দুয়ার অনেক ধন্যবাদ প্রাপ্য। সেখানে আবার পটলবাবুর গল্পে নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীকে দিয়ে অসাধারণ কাজ করানো হয়েছে, যিনি কিনা অনুরাগ না থাকলে আজকে স্টার হতে পারতেন না। পরে অবশ্য, লেবু কচলানোর মতই, সবাই এক এক করে নেটফ্লিক্সে হেগেছেন

তারপরে, ফিল্মের ট্রিটমেন্ট। এটা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না, দুজনেই অতিমাত্রায় সোশিওপলিটিক্যাল এলিমেন্ট প্রত্যেকটা বইএ রাখেন। খানিকটা ধর্মও বটে, দুজনেই সনাতন হিন্দুত্বের গাঁড় মেরেছেন প্রচন্ড। দিবাকর ব্যানার্জী একজন অসাধারণ ক্যামেরাম্যান আনলেন - নিকোস আন্দ্রিতসাকিস - যিনি তুললেন আগলি, যেটা কিনা খুব সুন্দর একটা ফিল্ম হয়েও গ্যাংসের তলাতেই পড়ে গেল। এমটিভির সাউন্ড ট্রিপিং-খ্যাত স্নেহা খানওয়ালকারের কাজ লাভ সেক্স ওউর ধোঁকাতে দেখে অনুরাগ তাকে পাঠালেন ক্যারিবিয়ানের দ্বীপপুঞ্জে ওয়াসেপুরের ট্র্যাক বানানোর জন্যে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, অনুরাগ যদি অসাধারণ অ্যাক্টর আর রাইটার আবিষ্কারক হোন, তবে দিবাকরকে ক্রেডিট দিতে হয় দারুণ দারুণ কিছু ক্রু খুজে বের করার জন্যে। তারপরে, যে দুটো সিনেমা নিয়ে না বললেই নয় - ডিটেক্টিভ ব্যোমকেশ বক্সী আর বোম্বে ভেলভেট। এই সময়ে দুজনেই দেশের বৃহত্তম দুই স্টুডিওর মালিকের সাথে কাজ করেছেন। আর দুটো সিনেমাতেই একগাদা টাকা পেয়ে দুজনে কি করলেন, না দুটো মেট্রোর রেট্রো লুক বানালেন আর দুই সুপারস্টারকে হিরো হিসেবে কাস্ট করে তাদের গোঁফ গজিয়ে দিলেন [literally]। তিতলির একটা প্রোমো ভিডিওতে দিবাকর দাঁত কেলিয়ে বলেছেন যে অনুরাগ প্রোডিউসার হওয়ার পরে তার নাকি ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স হত, তাই জন্যে তিনিও এবার ফিল্ডে নামলেন। বোম্বে টকিজ তো ২০১২-এর পরে। তার আগেও প্রচুর সাক্ষাৎকারে এদের দুজন কে একসাথে পাওয়া যেত। একটাতে এনারা দুজন ছিলেন আনন্দ গান্ধী [শিপ অফ থিসিয়াস] আর হাবিব ফয়সল [ইশকজাদে] দের সাথে। তাতে বারবার আনন্দ তার মিশরীয় নায়িকার কথা বলছিলেন বলে সবাই শো অফ করতে শুরু করেন। দিবাকর বললেন আমার ডিওপি গ্রীক, অনুরাগ বললেন আমার বৌ ফরাসী, আর হাবিব বললেন আমার মা পাঠান। কে বলে আর্ট ফিল্মমেকার রা সুপারফিশিয়াল হয় না?!

এই যেগুলো লেখা হল, মোটামুটি স্মৃতি থেকে। এর মধ্যে কয়েকটা খবর শোনা, কয়েকটার লিঙ্ক/ভিডিও আর ইন্টারনেটে নেই। সেই সবের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে খিল্লি উড়ান, আপত্তি নেই। কিন্তু এই যে ১০ বছর ধরে ওনাদের যে মিউচুয়াল তারিফ চলল, সেটার শুরু কিন্তু একটা শক্ত জায়গা থেকে। আগে কি হচ্ছিল, আদিত্য চোপড়া করণ জোহরকে কাস্ট করছেন, করণ কখনো মহেশ ভট্টর মেয়েকে ব্রেক দিচ্ছেন। তার কাউন্টারকালচারেই, ছোটো ছোটো [তখনো পর্যন্ত] শিল্পীরা এক সাথে দল বাঁধলেন। কিন্তু প্রবণতাটা কালে কালে সেই একই জায়গায় ঠেকলো। অবশ্য ওনাদের সেল্ফ জাজমেন্ট কিছুটা রয়েছে বলে, এই সব কথা স্বীকারও করেছেন। দিবাকর নিজেই বলেন, অনুরাগ আর ওঁনার মত বোম্বে জেনারেশনের ডিরেক্টরদের যে পরিমাণ কষ্ট ও কার্পণ্য করতে হয়েছে, সেগুলো তাঁরা করেছেন বলেই পোস্ট-মিলেনিয়াল ব্যাচকে সেটা আর ফেস করতে হয় না। অনুরাগ নাকি ভারতীয় রাজনীতিকে দিবাকরের মত অতো পারফেক্টলি কোনদিন দেখাতে পারবেন না। এই চলছে, এই চলবে। একদিক থেকে দেখতে গেলে, এই সব না হলে ব্লগারদের তো জুম টিভিতে কপিরাইটার হিসেবে জয়েন করতে হত। দেখি, ভবিষ্যতে 'র‍্যাডিক্যাল' ইন্টারনেট সেলেবদের উপরও এরকম একটা লেখা যায় কিনা

PINK : flaw of the feminist wave

২০১২ তে মনে আছে একটা ওয়েভ মতো এসেছিল?! সবাই বলাবলি করছিলো যে পৃথিবী সত্যি সত্যি না ধ্বংস হয়ে যায়, সেই ভয়ে লোকজন তাদের সেরা কাজটা করে রাখছেন। তেমনি, ২০১৫ ২০১৭ হল গিয়ে একটা সময় যখন একগাদা ফেমিনিস্ট মুভি রিলিজ করল। ওয়ান্ডার ওম্যান তো বটেই, যেটা কিনা নাকি খুব ইন্সপায়ারিং, প্রচুর স্ট্রং মহিলাদের নিয়ে লেখা। তারপরে আবার প্যাটি জেনকিন্স নিজে বানাচ্ছেন। এই ট্রেন্ডটা নিয়েও অবশ্য পরে খোঁচাখুঁচি করা যেতে পারে কিন্তু আপাতত পয়েন্টে ফিরছি। পিঙ্ক, অ্যাংরি ইন্ডিয়ান গডেসেস, মাত্র, মম, কাহানি ২, মর্দানি, সিমরন, মেরি কম, লায়ার্স ডাইস, নাম শাবানা, পার্চড। একটু খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে যে এর মধ্যে কয়েকটা প্রায় কামব্যাক ফিল্ম। আবার কয়েকটা আছে, বলিউড বঞ্চিতদের ক্লাব থেকে। আর কয়েকটা ডাইরেক্টলি কঙ্গনা ম্যাডামের ছবি :D। তবে মোটামুটি যে মোটিফটা পাওয়া যাচ্ছে, সেটা নিশ্চয় খুব ভাল কিন্তু এই ব্লগটা সেই ট্রেন্ড নিয়ে নয়

এইটা লেখার পুরো অনুপ্রেরণা পিঙ্ক থেকে। না না, সিনেমাটা নয়, বইটা দেখার সময় আমার যে রিঅ্যাকশন হয় এটা নিয়ে। টাইম ট্রাভেলের মত, নারী স্বাধীনতার কন্সেপ্টটা সত্যি কথা বলতে আমার মাথায় খুব একটা ঢোকে না। সেই নিয়ে অবশ্য পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে এক হাত নেওয়া যায়, কিন্তু আমার নিজেরও বোঝার গলদ আছে। এবং দূরদর্শিতার অভাব। আমি খুব লিবারাল সাজার জন্যে, একাধিক মহিলাদের নিয়ে এই সিনেমাটা দেখতে গেছিলাম। প্রথমে ঠিকঠাক চলছে, একটু আধটু জোক টোক, কিন্তু যেই ইন্টারভাল দিল, আমার বান্ধবীরা যেনো হেব্বি চার্জড হয়ে উঠলো এবং আমাকে পুরো সেকেন্ড হাফে প্রচুর বঞ্চনা ও অশ্লীলতার উদাঃ শুনতে হল। প্রশ্ন হছে, আমার কি চোখ কান বন্ধ করে এগুলোকে ভাল বলা উচিৎ। কয়েকটা সিনেমা যেমন মাত্র, মম আমার খুব ভাল্লেগেছিলো, কিন্তু সেটা তো ক্র্যাফট। এই যে শুনে আসছি, আধুনিক শিল্প কি বলতে চাইছে, তার থেকে বেশি জরুরি কি ভাবে বলছে, তার বেলা?!

সেই ঘুরে ফিরে একই জায়গায় ফিরে আসলুম, আর সেটা হল স্টাইল না সাবস্ট্যান্স। এর সহজতম ব্যাখ্যা হল, কবি কি বলতে চাইছেন। একটা ছবি এঁকে আমি খুব ভারি কিছু সামাজিক বার্তা দিতে পারি, তখন কিন্তু তার রঙের ব্যবহার দেখলে চলবে না। আবার একটা গান কেউ গাইতেই পারেন চমৎকার সুর, রাগ ও শব্দ প্রয়োগ করে - যেটা কিনা আসলে একটা প্রপাগান্ডা। হাজার হাজার এরকম আছে। যেমন প্রথম ১২ রিলের সিনেমা, বার্থ অফ আ নেশন। যাকে ব্রেকথ্রু কিছু ক্যামেরা ও এডিটিং এর জন্যে নির্বাক যুগের সিনেমার একটা বিশাল মাইলস্টোন বলা যায়, সেটা কিন্তু প্রবলভাবে কেকেকে-কে সাপোর্ট করে তোলা। লিংকন-হত্যাকারী বুথকে প্রায় একটা রেবেল ও জাতীয় হিরো হিসেবে দেখানো হয়েছে এতে। উল্টোদিকে আমাদের দেশের কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন ডিরেক্টরদের প্রচুর বই রয়েছে যেখানে সাবল্টার্নদের অধিকার দের নিয়ে হাই ফাই বাতেলা আছে, কিন্তু সিনেমা দেখার মজা নেই। অতএব, বুঝতে হবে যে জিনিসটা বানানো হয়েছে কি দেখার জন্যে

উল্টোদিকে এটাও বলা যায়, কবি কবে কী বলে গেছেন, সেই নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আর কে নারায়ণ তার মহাভারতের অনুবাদের মুখবন্ধে বলেছেন, এই কাব্য বারে বারে রিইন্টারপ্রেট হয়ে এসেছে, এবং আরো হবে। সিটিজেন কেন প্রায় একটা এক্সপেরিমেন্টাল ফিল্ম হিসেবে বানানো হয়েছিল [ক্যামেরা আর লাইট দেখলে বুঝবেন কি খাটনি গেছে], আজকাল সেটাকে ফিল্ম মেকিং এর টেক্সটবুক বলা হয়। গুণ্ডাকে মিঠুনের একটা সিরিয়াস সিনেমা বলা যেতে পারে, কিন্তু ওটার কাল্ট ফলোইং হয়েছে কিন্তু ভিলেনদের গ্যাংএর জন্যে। অতএব, হ্যাঁ, অন্যভাবে দেখাই যেতে পারে। তারপরে আবার একটু পড়াশুনোও দরকার, যাকে বড়ো বড়ো অফিসে প্রিরিকুইজিট বলে। কেউ বলতেই পারেন, আর্টের মুখ্য উদ্দেশ্য যদি আমোদই হয়, তাহলে বাবা আত ঝামেলার দরকার কি?! এজরা পাউন্ড [মনে হয়] বলেছেন, "পোয়েট্রি শুড কমিউনিকেট বিফোর ইট ইস আন্ডারস্টুড". এই কথাটা তো বাকি আর্ট ফর্মের ক্ষেত্রেও খাটে নাকি?!

এতক্ষন কনফিউজ করার ও হওয়ার পরে মূল বিষয়ে ফেরা যাক। তাহলে এই যে নয়া নারীবাদী সিনেমা আসছে, সেটা নিয়ে আমরা করবোটা কি?! আমরা মানে পুং-রা। প্রথমত তো সব জিনিস নিয়ে কনক্লুশনে পৌঁছানো যায় না বলে আমি মনে করি। ঐ ঈশপ বা বিষ্ণুশর্মা আড়াই হাজার বছর আগে যা করে গেছেন, সেটাকে সব জায়গায় ফলো করার কোনও দরকার নেই। ছোটগল্পের আইডিয়া তো মোটামুটি এখান থেকেই। যে জীবনের একটা স্লাইস তুলে দেওয়া হল, তার মানে জীবন, বা গল্পও, শেষ হয়ে যায় না। এবং নানা ভাবে ইন্টারপ্রেট করা যেতে পারে। আমার নিজের ওনাদেরকে খুব পছন্দ, তার মানে এই নয় যে ওনাদের ফরম্যাট-ই একমাত্র ফরম্যাট। যদি সত্যিকারের নারীবাদ সাপোর্ট করতে হয়, সিনেমাটাকে সেইভাবেই দেখব যেমন করে একটা মেল-লেড পীসকে দেখা হয়। স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের সাথে খিস্তি ও ক্যালানি একই প্যাকেজে আসে। এই লেখাটা আসলে সেই সেকেন্ড প্যারার আঁতেল বান্ধবীদের জন্যে, তারা একটু বুঝলেই ব্লগ সার্থক

CRITIC : unlimited pretension

আমার লাস্ট লেখা সব ২০১৭ এর আগে। আমি যেখানে কাজ করি সেখানে ২০১৭-র জানুয়ারিতে একটা বড়ো টেকনিকাল আপগ্রেড ছিল, আর সেটা ফাটে। ঐ যে শুরু হল, সেই ধুঁয়োতে কাজ আর জীবন দুটোই ভালো মার খেল। এখন অবশ্য অনেকটাই হাগা পরিষ্কার করা গেছে, কিন্তু জানবেন নিজে না চাইলে কেউ বাঙ্গালিত্ব ভোলে না আর বাঙ্গালির অ্যাট লিস্ট তিনটে হাত। আমি, খুব প্রফেশনালদের মত, নিজে একটা লিস্ট-ও বানিয়েছিলাম আর কি কি নিয়ে কায়দা মারবো বলে, সেটা সেই লিস্টেই পড়ে আছে। কবি বলেছেন, যেকোনো জিনিস এ তার ক্রিয়েটরকে রিফ্লেক্ট করে ["অ্যাজ মাচ অটোবায়োগ্রাফিক্যাল অ্যাজ ইন আদার.."], সেই জন্যে একটু ইচ্ছা হল সেই অসমাপ্ত কাজের কথা বলার। জানুজ কামিনস্কি বলেছেন যে ওনাকে জানতে হলে ওনার কাজ দেখতে হবে। আবার উলটো যুক্তিরও অভাব নেই। বিভূতিভূষণ ব্যানার্জির মত নিসর্গ-প্রেমিক লেখক নাকি বৌকে পেটাতেন ধরে ধরে। অতএব, ডিপেন্ডস। আমার কাছে এর থেকে বেটার মেটেরিয়াল আর কিছু নেই বলে আপাতত স্টিকি থেকেই ব্লগ ভরাচ্ছি। আমি এখনও বুঝে উঠতে পারি নি কি নিয়ে/কেমন ভাবে নতুন মাল গুলো আপলোড করব

লিস্ট হেব্বি লম্বা। সেই সময়ে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার একটা ফ্যাশন ওঠে, সেই নিয়ে পয়েন্টারস অবধি রেডি ছিল। আরেকটা জিনিসের হিন্ট পুরোনো আর্টিকেলগুলোতে দিয়েছিলাম, সেটা হল অনুরাগ কাশ্যপ ও দিবাকর ব্যানার্জির পোদে লাগা, সেটাও মোটামুটি ভাবে তৈরি। আর কয়েকটা, যেগুলো ইন্সপায়ার্ড বাই তৎকালীন ফিল্ম এবং ফিল্মি ট্রেন্ড। যেমন লোগান থেকে 'genre mashup' আর টাইগার জিন্দা হ্যায় থেকে 'the dawn of big hits'। আমি তখন তিন-চার জনের কাছে কুয়েন্টিন দুপিয়ে [ট্যারান্টিনো নয়, আরেকজন] এর নাম শুনে খুব ভক্ত হয়ে গেছিলাম, সেটাও তো কিছু করা হয়নি। বাকি দুটো যেগুলো অলমোস্ট ফাইনাল ছিল তার একটা অনলাইন মুভি এক্সপ্ল্যানেশন বা ব্রেকডাউন নিয়ে, আর একটা খুব পার্সোনাল.. পূজোর নতুন বই কিছুতেই এখানে পাওয়া যায় না, আর বাইরের লোক পূজোর ছবি বলতে কিভাবে রিয়্যাক্ট করে, সেই সব মারানোর একটা আইডিয়া। তার পরে আর কয়েকটা জিনিস শুধু পয়েন্ট লিখে রেখেছিলাম, এই এতো বছর পরে বাকিটা ভুলে গেছি

আর এখন, এখন আমার প্ল্যান হল যতগুলো সম্ভব ব্যাকলগ ক্লিয়ার করা। তার আগে আছে বাছাই পর্ব। কি আগে নেব আর কোনটা কোনটা বাদ যাবে। যখন ভাবছি এগুলো, মোটামুটি সুরে যে কিছু টপিক অবসোলিট হয়ে গেছে আর কয়েকটা জিনিস নিয়ে অন্য লোকজন লিখে ফেলেছে, সেই গুলো বাদ দেওয়া যাক

তারও আবার কাউন্টার আছে। এই যে গত দশ বছর ধরে চেল্লাছি যে রেলিভ্যান্স বলে কিছু হয়না আর্টের ক্ষেত্রে, বা, ব্যাক্তিগত এফোর্টের থেকে আর ভাল কিছু হয়না, সেই থিওরি তো মাঠে মারা যাচ্ছে আমি যদি হ্যান্ডপিকিং করি। তাহলে, একটাই চিন্তা এখন, কি করব

এতক্ষন দেখে কি মনে হল?! খুব অ্যানালিটিক। তবে এই ফার্স্ট দুটো ফিচার লিখে কিন্তু আমার মনে হছে যে আমি, মুভির থেকে, নিজেকে নিয়ে অনেক বেশি লিখছি এবার। যখন এই সেকেন্ড কলামটা লিখছি, ভাবছি যে সবগুলো পেন্ডিং ব্লগই লিখব, আর হয় গেলে, এটা থেকে হাইপারলিংকড করে দেব। খুব অ্যাম্বিশাস। দেখি কদ্দুর যায়। আর এই ছোটো ছোটো বাক্য দেখে মনে হচ্ছে যে রোরশাকের ডায়েরির প্রভাব তাও কম না। হ্যাঁ, এটা একটা আপডেট বটে। আমি, প্রায় ১৩-১৪ বছর পরে, একটা ইংরেজি বই কিনলুম। ফ্লুকে তো বটেই। লাস্ট কিনেছিলাম স্কুলে থাকতে, কাকে যেন একটা ইমপ্রেস করার জন্যে। অবশ্য এই বইটাও কেনা হয়েছে মোটামুটি ঐ রকম একটা প্রিটেনশন মারাতে। তবু ভাল, কিছু তো দেখা গেল। প্রসঙ্গত বলে রাখি, জ্যাক স্নাইডার কিন্তু হেব্বি প্লেন একটা অ্যাডাপটেশন করেছিলেন [আমরা শুধু সন্দীপ রায়কেই দোষ দিই ক্যানো]. এই দুটো ভিডিও দেখলে মোটামুটি একটা আইডিয়া পাওয়া যাবে




COMEBACK : self fear and self loathing

নতুন বছর। মাঝে আড়াই বছরের গ্যাপ ছিল, আর বাড়িও আড়াই বছর যেতে পারি নি। ল্যাদ ছাড়া আর কোনো কারণই নেই। আর মনে হয় একটু বেশি ইন্ডিকা টানা হয়ে যাচ্ছিল। এই আড়াই বছরে কি পরিবর্তন হয়েছে?! না, কিছু না। আমি বিয়ে করি নিই, সুইচ-ও না। আর বাইরে?! ও বাবা, প্রথম দর্শনে অবশ্য ভয়ানক একটা ভাইব পাওয়া যাবে। রাজ্যে, দেশে, বিশ্বে। সৌম্যদার কথা খুব মনে পড়ে। আমি মাল খাওয়ার সময়ে একটু রাজনীতি নিয়ে অ্যামেচারিশ ভাট বকতে ভালবাসতাম। কিন্তু যখনই মমতা ব্যানার্জির কথা উঠতো, সৌম্যদা একটা ব্যাজার মুখ করে বলত ঐ লোকটার নাম না নিতে, তাতে নাকি ওনার নেশা চটকে যাবে। ভাবতুম আদিখ্যেতা। এখন আমার পুরো সিস্টেমের উপর ঐ ফিলিংটা হচ্ছে। কারণ অনেক থাকতে পারে। চাকরিতে প্রসন্নতা নেই। এই বয়সেও বিয়ে হচ্ছে না। ভাল জিনিস মর্যাদা পাচ্ছে না দেখতে পাওয়া। খারাপ লোক বলে যাদের ভাবতুম তাদের পর পর সাকসেস। আর সিপিএম এর কোমর ভাঙ্গার খবর তো আছেই। ভাবুন একবার, লাস্ট ইলেক্শনে যে কটা সিট পেয়েছে, সেটা কোথা থেকে, পঃবঃ না, ত্রিপুরা না, কেরল না, তামিলনাডু। নবারুণ ভট্টাচার্য ঐ কিউএর ডকুমেন্টারীতে বলেছেন, নাইন্টিজে সোভিয়েত ইউনিয়ন কোলাপ্স হওয়ার পরে উনি নাকি ভীষণভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন, আর আমি এইটুকু প্রিটেন্ড করতে পারব না?!

কিন্তু উলটোটাও ভেবে দেখুন। বাবা এবং পিতৃস্থানীয় সবাইকে আমার ছোটবেলায় খুব রেন্ডিরোনা করতে দেখেছি এই বলে যে সিপিএম আর কংগ্রেস মিলে আমাদের সর্বনাশ করে দিল আর জীবনমুখী গান স্বর্ণযুগের কাছে কিছুই না। আমি কলেজে থাকাকালীন নিজে খুব সচেতন হয়েছিলাম যে আর যাই হোক ভাই, এই কাঁদুনি কোনো দিন গাইব না। কিন্তু ঘুরে ফিরে ঐ হল। আমি নতুন অ্যাক্ট্রেসদের নাম জানি না, ধোনির পরের জেনারেশন সম্পর্কে কোনো আগ্রহই নেই যেনো। আরেকটা বিশাল অব্জারভেশন, একের পর এক লোক মরে যাচ্ছে। মানে, যাদের আমি নাম জানি। সব ফিল্ডেই। আমাদের প্রজন্মের [একেকটা প্রজন্মের যে আলাদা আলাদা নাম আছে, সেটাও এই লাস্ট আড়াই বছরে জানা] যে কেউ এটা পরখ করে দেখতে পারেন। দেখা যাবে যে প্রত্যেক মাসে এক বা একাধিক ফেমাস লোক টপাটপ গত হচ্ছেন। এমনকি চেনা পরিচিত বৃত্তের মধ্যেও। এটাকে যতটা জেনেরিক নস্টালজিয়া বলে গ্লোরিফাই করা হয়, আমার মনে হয় তা না। আসলে আমাদের সবার সমকালীন কিছু হিরো থাকে। এবং তাদের আমরা এতোটাই ভালবেসে ফেলি যে ফ্যানবয় থেকে ফ্যানাটিক হতে বেশি টাইম লাগে না। তারপর আর কাউকে পছন্দই হয় না। এক হিসেবে দেখলে, এটাকেই হয়ত নস্টালজিয়া বলে। তারকোভস্কি বেঁচে থাকলে এর উপর একটা সিকুয়েল বানাতে পারতেন

তো মানেটা কি হল, এই যে এতো আলোচনা ও চোদন, তার কোনো তাৎপর্য থাকবে না?! প্রথম কথা হল, ২০২০এ এসে আর তাৎপর্য নিয়ে এতটা মাথা না ঘামালেও চলবে। জীবনে প্রচুর জিনিস আছে, যার কোনো এফেক্টিভনেস নেই। যুদ্ধ, সিগারেট ইত্যাদি। যদি অ্যাবসলিউট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়। আবার কেউ বলতে পারেন, অ্যাবসলিউট বলে কিছু হয়না, সে কথাও আমি মানতে রাজি। সেকেন্ডলি, আমি আগে বলতাম সবাইকে বুঝতে হবে অন্য একটা লোকের পার্সপেক্টিভ, আর এখন বলছি পোদ মারাও। আমি আশা ছাড়ি নি, ছাড়লে এইগুলো লিখতাম না, কিন্তু ঐ শশাঙ্ক রিডেম্পশনের মত ধেই ধেই করে সেলিব্রেট করার কথাও ভাবছি না। সরকারের মতোই, "পিপল গেট" দা প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস "দে ডিসার্ভ"। যুগ যুগ ধরে এই চলছে। সামনেও এই চলবে। অবশ্য ছোটো ছোটো স্পেস, প্রান্তিক বাবলগুলো কে বেশি মর্যাদা দেব, কিন্তু সেটা একান্তই আমার চয়েস যেটাকে আজকাল বলা হয় IMO। আমি উৎকর্ষের চেয়ে মৌলিক/স্বাধীন মতামত কে বেশি পছন্দ করি, সেটার কারণ অন্য। আজকাল অনেক কিছুই খারাপ হচ্ছে, কিন্তু সেটা খারাপ হওয়ার ধর্ম, আজকালের নয়।

কারণ খারাপ সব সময়েই হয়ে এসেছে। আই মীন, যে জিনিসগুলো তথাকথিত খারাপ।এখানে পাইরেটস অফ দা ক্যারিবিয়ানের খারাপ ভালোর পার্থক্য ভুলে যাওয়ার কনসেপ্টটাও দ্রষ্টব্য। প্রাচীন যুগে ঐ একজন করে আর্কিমিডিস, বা খনা, বা সত্যকাম, বা পারসিয়াস, বা বিদ্যাসাগর, বা আনন্দী গোপাল, বা ডায়োজিনিস ছিলেন। কিন্তু বাকিদের, যাদের ইতিহাস পাওয়া যায় না, তারা তো বেকার। একবার যদি নিজের টিমটার প্রতি ঝলক দেওয়া যায়, বোঝা যাবে বেশির ভাগ লোকই অকর্মন্য। এই যে ন্যাশনাল টিমে লোকের জায়গা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে, সবই কি আর পলিটিক্স?! দেখবেন বেশির ভাগ নেতা ও মন্ত্রী করাপ্টেড বা বেশির ভাগ শর্ট ফিল্ম জঘন্য। কারণ, এটাই নিয়ম এবং বেল কার্ভ। ২০০০ টা গল্পও ছাপালে ৫০ টা অসাধারণ হবে, ২০০ টা ছাপালে ৫ টা। সেই জন্যেই, কোয়ালিটি পাওয়ার জন্যে কোয়ান্টিটি এত প্রয়োজনীয় একটা ফ্যাক্টর। অবশ্যই সবাই কবি নয়, কিন্তু "সকলেই" চেষ্টা করছে বলেই "কেউ কেউ" উঠে আসছে। এটা বলছি না যে ইচ্ছে করে বাজে কাজ করতে হবে, কিন্তু অর্গানিক্যালি এইটাই হয়ে এসেছে আর এর থেকে কোনো মুক্তির পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না

এই রকম ভাবে শুরু করা যাক তাহলে। খুব, খুব সিনিক। কি করব বলুন। প্যাসিভলি দেখতে গিয়ে, যাকে সংস্কৃতে তটস্থ বিচার বলা হয়, আর কোনো প্যাটার্ন খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরে জানবেন পয়সা করাপ্টস এভরিথিং। এই যে অ্যাদ্দিন ধরে একটা পুঁজিবাদী দেশে থেকে ভুঁড়ি বাড়াচ্ছি, তার একটা তো কুফল পাওয়া যাবে। অ্যানিমাল ফার্মে বলা হয়েছে ক্ষমতা করাপ্টস । কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যাবে, এটা যে কোনও কনভেনিয়েন্সের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেখবেন পুরোনো সিনেমায় ভানু ব্যানার্জির ছেলে [সৌমিত্র] বিদেশে থাকতো আর অনেক গুলো বদ-অভ্যাস নিয়ে দেশে ফিরত। সেটা আমেরিকা বলে নয়। টাকা আছে বলে। আমেরিকা তে এসে সৌমিত্রকে যদি মল বা দোকানে কাজ করতে হত, তাহলে হয়ত একটু বেশি বিনম্রতা পাওয়া যেত। ফিরে আসি সেই সেল্ফ জাস্টিফিকেশনে, আমার দোষ নেই মা, এই যে ক্ষমতা বা অর্থের প্রাচুর্য, তাতেই আমি নষ্ট হয়ে গেলুম। আজকাল অবশ্য খ্যাতিকে এদেরই স্যাঙাত বলা চলে। এই রকম একটা ডার্ক এবং আনসেটলিং মুড নিয়ে এবার কামব্যাক করা যাক। মাঝে মধ্যে অবশ্য মুড সুইং হতেই পারে। সবার উপর কনটেন্ট সত্য, তাহার উপর মাই